শব্দসুধা’র মুমু; দুই পৃথিবীর একটি চাঁদ
শিরোনাম দেখে হয়তো একটু বিভ্রান্তি ছেঁয়ে যেতে পারে আপনার মনকে। কারণ এখন পর্যন্ত অনেক গ্রহের একাধিক উপগ্রহের কথা শুনেছেন এবং বইয়ে পড়েছেন। কিন্তু তাই বলে দুই পৃথিবীর একটি চাঁদ! এটা কোন গ্রহের ক্ষেত্রে না হলে মনুষ্য জীবনের বাস্তবতায় ঘটেছে এরকমই। বলছি আবৃত্তি শিল্পী মাহিনুর মুমুর কথা। যিনি দুই পৃথিবীর একটি চাঁদ। তাঁর দুই পৃথিবী হলেন দুই পিতা। একজন জন্মদাতা পিতা আরেকজন অর্ধাঙ্গ অর্থাৎ স্বামীর পিতা (যাকে আমরা শশুর শব্দে সম্বোধন করি)। তারা উভয়ই তাঁর জীবনের নানা পরিস্থিতিতে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের সমাজে সচরাচর পুত্রবধুকে মেয়ের মতো সমর্থন করা খুবই বিরল। তবে এই সমর্থনের অভাব মাঝে মাঝে তাঁদের শিল্পচর্চা এবং ব্যক্তিগত উন্নতি বন্ধ করে দেয়। সেদিক থেকে মুমু অত্যন্ত ভাগ্যবান একজন নারী, যিনি বাবার আবৃত্তিপ্রেমের কারণে ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তিচর্চার প্রতি পূর্ণ মনোনিবেশ করতে পেরেছিলেন। বিয়ের পর স্বামীর ঘরে এসেও আবৃত্তিচর্চা ও বিকাশে শশুরের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছেন।

যেখানে আমাদের সমাজে সচরাচর মেয়েরা শশুর বাড়িতে গেলে একাডেমিক পড়ালেখাই করতে পারে না, সেখানে শিল্পচর্চা তো একদম দুষ্প্রাপ্য। মাহিনুর মুমু তাঁর সৃষ্টিশীলতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন, যা সমাজের বিভিন্ন প্রান্তের নারী শিল্পীদের জন্য একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে। কিন্তু মাহিনুর মুমু নিজের পিতা ও শশুর দুজনের পক্ষ থেকেই সমান সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়ে এগিয়ে চলেছেন শিল্প-সাহিত্য বিকাশে। গতকাল ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তাঁর পিতার হাতে গড়া আবৃত্তিচর্চা সংগঠন ‘শব্দসুধা’ আয়োজিত আবৃত্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে কৌতূহল এবং উচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিলেন দর্শকরা। অনুষ্ঠানটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনই নয়, বরং এটি ছিল একটি প্রচেষ্টা, যেখানে পরিবারের সদস্যরা তাদের গুণী শিল্পীর সফলতার গল্প শুনতে এসেছিলেন এবং আরো একজন মুমু আমাদের মধ্যে গড়ে উঠছে।
পিতা ও শশুর দুজনকে নিয়েই মাহিনুর মুমু সমান গর্ববোধ করেন। তিনি মনে করেন সৃষ্টিকর্তা যেন বাংলার প্রত্যেক শশুরকে তাঁর শশুরের মতো মন মানসিকতা দান করেন।
