অনুপস্থিতির গোপন মানচিত্র
শফিউল বারী রাসেল
ফার্মগেটের রেষ্টুরেন্টের টেবিলগুলো—
এখনো আমার ভেতর অবশ হয়ে পড়ে থাকা
একেকটা অচেনা হাড়।
ইফতারের প্লেটে যে তর্ক ভিজেছিল—
আজও কানে বাজে—
তোমার সে কণ্ঠ,
জলের উপরে ভাসা হলদে লঙ্কার মতো টক।
তেজতুরী বাজারের হোস্টেল—
একটা হেঁটে যাওয়া দুঃস্বপ্ন।
দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে তোমার মুখ—
দুই ইঞ্চি তাচ্ছিল্য, বাকি সব অবজ্ঞার ছায়া।
হাতিরঝিলে যেদিন আমি ভেঙে পরেছিলাম—
তুমি হাসছিলে—
অথচ সেই হাসির ভেতর আমি শুনেছিলাম
একটা ধাতব শব্দ—
যেনো ভাঙা বিশ্বাসের উপর কেউ টেবিল ঠুকছে।
রামপুরার গলির রাস্তা কিংবা মহুরুলের পিচঢালা পথ
আমার পায়ের কাছে এসে
প্রতিদিন নতুনভাবে মরা স্মৃতি ছিটিয়ে যায়—
হালকা ধুলোর মতো, কিন্তু ফুসফুসভরা ভার।
ভাত গেলার সময় গলায় আটকে থাকা সাদা দানা—
আজও মনে করিয়ে দেয়,
ভালোবাসার শেষে থাকে অদ্ভুত এক দমবন্ধ ঘ্রাণ।
তৃষ্ণা এখন আবেগের মতোন—
বাইরে থেকে স্বচ্ছ, ভেতরে নিঃশেষ।
রাত জাগা এখন অভ্যাস নয়—
একটা নির্দিষ্ট দুঃখশাস্ত্রের পাঠ-পর্ব।
দিন গোনা মানে তোমাকে গোনা নয়—
অপেক্ষার শূন্যচিহ্নগুলো গোনা।
আমি জানি—
তোমায় খুঁজে পাওয়া
একটা অসম্ভব গাণিতিক সমস্যা—
কিন্তু মানুষ মাঝে মাঝে
অসমাধানকেই সমাধান ভাবে।
হাসি?
হাসি আছে—
তার নিচে স্তর স্তর গোপন কান্না—
যেনো ঠান্ডা আগুন,
জ্বলে না, তবু পোড়ায়।
আমি বেঁচে আছি—
স্মৃতি নয়, স্মৃতির অনুপস্থিতি নিয়ে।
তোমা নয়,
তোমার রেখে যাওয়া অদৃশ্য মানচিত্র নিয়ে—
যেখানে পথ আছে, কিন্তু গন্তব্য নেই।
